বরিশালের ৬ আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে তৎপর বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন

বরিশালের ৬ আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে তৎপর বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন
ছবিঃ পৈত্রিক

দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশালঃ

বরিশালের ছয়টি আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই ভোটের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইসলামপন্থী দুটি দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপিও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার ফলে প্রতিটি আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে।

জামায়াতে ইসলামী গত ফেব্রুয়ারিতেই প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একই সময়ে মাঠে নেমে পড়ে। দুই দলের প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। জেলায় ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকায় তারা বিএনপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে। জামায়াতও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও জাতীয় পর্যায়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা চলমান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন বলেন, "এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে। সময়ই বলে দেবে কী হবে। দেশবাসী পরিবর্তন চায় এবং জামায়াতের প্রতি তাদের আস্থা বাড়ছে।"

প্রার্থীজটের কারণে বিএনপির মাঠে তেমন গতি না থাকলেও ৩ নভেম্বর পাঁচটি আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রার্থীদের গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী যাত্রা নতুন গতি পায়। তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রস্তুতি নিলেও তাদের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। বাম দলগুলোর প্রার্থীরাও এখনো মাঠে সক্রিয় হননি।

বরিশাল–১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া): বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন ইতোমধ্যে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার মেহেদী সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "দেশের ৪৮ শতাংশ তরুণ ভোটার এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উৎসুক।"

বরিশাল–২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া): বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু), জামায়াতের আবদুল মান্নান ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন—তিনজনই গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সাবেক সাংসদ গোলাম ফারুক অভির প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): বিএনপির তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী—সেলিমা রহমান, জয়নুল আবেদীন ও মনিরুজ্জামান আসাদ—তৎপরতা চালালেও দল এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জামায়াতের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সক্রিয়। জামায়াত নেতা বাবর বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে।"

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ): বিএনপির রাজীব আহসানের মনোনয়নে দলের একাংশে অসন্তোষ রয়েছে। জামায়াতের মাওলানা আবদুর জব্বার ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের আগে থেকেই সক্রিয়।

বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন): বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার চারবারের সাংসদ ও সাবেক মেয়র। ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। মজিবর রহমান বলেন, "বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি, এবার আরও ব্যাপক সমর্থন পাবে।" ফয়জুল করীমের মতে, "দেশের যুবসমাজ এখন ইসলামি রাজনীতির পক্ষে।"

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): বিএনপির আবুল হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী। জাতীয় পার্টির এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।

সার্বিকভাবে, বরিশালের ছয় আসনে ইসলামপন্থী দুটি দলের সক্রিয়তা ও বিএনপির দলীয় প্রস্তুতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ রাজিব আহসান