টেকনাফে পাচারকারী চক্রের মূলহোতা সহ ১৩ পাচারকারীকে আটক করছে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব

টেকনাফে পাচারকারী চক্রের  মূলহোতা সহ ১৩ পাচারকারীকে আটক করছে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব
ছবি: শামসুল আলম শারেক

দৈনিক বিজয় নিউজ টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট পাচারকারীর মূলহোতা রোহিঙ্গা আজিমউল্লাহ সহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব। একই ঘটনায় পরে পৃথক যৌথ অভিযানে উখিয়া থেকে চক্রের মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি  অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোট সহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকাল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর সমন্বয়ে উখিয়ার বালুখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মিয়ানমারে পণ্য পাচারের অন্যতম মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক আজিম উল্লাহ উখিয়ার বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মিয়ানমারে অবস্থানরত আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পণ্যের চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার বিভিন্ন অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় এসব পণ্য সমুদ্রপথে পাচার করতেন। এসব পণ্য মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র কাছে সরবরাহ করা হতো বলে জানা গেছে।

এছাড়া, পাচারের বিনিময়ে তিনি মাদক, বিদেশি সিগারেট সহ অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্যও পেয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর পরিচালিত এ অভিযানে চক্রটির অন্যতম মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেঃআরফাত হোসেন। জব্দকৃত সিমেন্ট, ব্যবহৃত বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ শামসুল আলম শারেক