কাঁথার আয়েই আলোর পথ: শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনে ফল প্রকাশ ও বৃক্ষরোপণে উৎসবের আমেজ

কাঁথার আয়েই আলোর পথ: শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনে ফল প্রকাশ ও বৃক্ষরোপণে উৎসবের আমেজ
ছবিঃ মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট

দৈনিক বিজয় নিউজ সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাই যেন একটি শিশুর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে দেয়। সেই স্বপ্নের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল খ্রিষ্টানপাড়ার শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের পরিচর্যার দায়িত্বও তুলে দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন,“শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে শিক্ষার সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে, তা দেশের জন্য অনুসরণীয়। সুমী মুর্মুর এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় পরিবর্তন সম্ভব। এই ধরনের উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে সমাজের সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু শিশুদের শিক্ষিত করছে না, বরং একটি মানবিক, সম্প্রীতিময় ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের ভিত্তি রচনা করছে।”অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান ও শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সুমী মুর্মু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুগরইল গির্জার ফাদার পল পিটার কস্তা এবং গ্রাম্য প্রধান জুলিয়ান বিশ্বাস। সভাপতির বক্তব্যে সুমী মুর্মু বলেন,“আমাদের বিশ্বাস, একজন শিক্ষিত শিশুই একটি আলোকিত পরিবারের ভিত্তি। তাই মায়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করছি। নকশিকাঁথার প্রতিটি সেলাই আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা বইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি মানবিকতা, সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার শিক্ষাও দিতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ আরও অনেক শিশুর জীবনে আলোর দিশা হয়ে উঠবে।”উল্লেখ্য, শিশু প্রভাত বিদ্যানিকেতন একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর শিক্ষা উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সাঁওতাল নারীরা নকশিকাঁথা তৈরি করে যে আয় করেন, তার একটি অংশ বিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যয় করা হয়। বর্তমানে এখানে আদিবাসী শিশুদের পাশাপাশি বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুরাও একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। শিক্ষা, স্বাবলম্বিতা, সম্প্রীতি এবং পরিবেশ সচেতনতার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ হোসেন আলী ছোট্ট