গাজায় আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলেছে ইসরায়েল, এর মধ্যেই হামলায় নিহত ৫০

গাজায় আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলেছে ইসরায়েল, এর মধ্যেই হামলায় নিহত ৫০
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ইসরায়েল গতকাল শনিবার ঘোষণা করেছে যে তারা গাজা উপত্যকায় আকাশপথে ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে। এছাড়া, মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা একটি মানবিক করিডর খোলারও উদ্যোগ নিয়েছে। ফিলিস্তিনি অঞ্চলে খাদ্যসংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের এ ঘোষণা এসেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে জানিয়েছে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা আকাশ থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছে। এর আগে, ইসরায়েল বলেছে যে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িগুলো যাতে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে পারে, সে জন্য মানবিক করিডর তৈরি করা হবে। তাদের দাবি, এতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স (টুইটার) পোস্ট করে জানিয়েছে, রোববার সকালে গাজার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ত্রাণ বিতরণ সহজ করতে ‘মানবিক বিরতি’ কার্যকর করা হবে। তবে, মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষের চাহিদা মেটাতে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা যথেষ্ট নয়। তারা স্থলপথে আরও বেশি ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দাবি করেছেন। ইসরায়েল গত ২ মার্চ গাজায় পূর্ণ অবরোধ জারি করেছিল, তবে মে মাসের শেষ দিকে সীমিত পরিমাণে ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দেয়।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছে যে তারা গাজায় আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলা শুরু করবে। যুক্তরাজ্যও জানিয়েছে যে তারা জর্ডান ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে গাজায় ত্রাণ সরবরাহে কাজ করবে। ইসরায়েলের ত্রাণ সহায়তার ঘোষণার মধ্যেই ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ও গুলিতে আরও ৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিছু মানুষ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে মারা গেছেন।

এদিকে, আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) জাহাজকে ইসরায়েলি বাহিনী বাধা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ‘অপহরণ’ করেছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

ফিলিস্তিনি অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, যেখানে শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টি দেখা দিয়েছে। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২১৯ জন নিহত হন। অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৫৯,৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ