স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অতীত-বর্তমান, আকাঙ্খা ও ভাবনা
দৈনিক বিজয় নিউজ পাবনা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই অসাধারণ আবেগপ্রবণ! ইতিহাসের পাতায় তাকালেই দেখা যায় যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ঐতিহ্যে 'স্বদেশ প্রত্যাবর্তন' শব্দ দুটি বারবার বাংলাদেশী বাঙ্গালিদের মনে চিত্তে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। সময় বদলে গেছে, প্রজন্মও বদলে গেছে, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে কাণ্ডারি রাজনৈতিক পথপ্রদর্শকের ফিরে আসার গুরুত্ব সব সময়ই কাঙ্খিত ও অপরিসীম ছিল। এক) ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মহান মুক্তিযুদ্ধের অবসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট ভাবলে জলজল করে চোখের কোনে ভেসে উঠে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও আশা আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রান সম্ভ্রম উৎসর্গকৃত রক্তক্ষয়ী বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে ফিরে আসা ছিল এক পরিপূর্ণতার নাম। সেদিন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ একটি স্বাধীন দেশ তার প্রাণ খুঁজে পেয়েছিল। আমি সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারিনি, তখন আমি জন্ম নেইনি সত্য তবে পরবর্তীকালে তার গুরুত্ব অনুভব করেছি রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনও করি।
দুই) ১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন- চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ও ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে ছিলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তখনও আমি রুহ্জগতের বাসিন্দা। অথচ অনেকেই অবগত আছেন সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বাংলাদেশে ফেরা তৎকালীন রাজনীতিতে কতটা প্রয়োজন ছিল ও কতটা বড় প্রভাব ফেলেছিল দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ইং আগামীর পথে দেশ নায়ক তারেক রহমান- আজকের দিনটিকেও বিশেষ অর্থে বিশেষ মনে করি পরিস্থিতি বিশেষে। ফি আমানিল্লাহ,সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরে ও লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মী ঘর বাড়ী স্বজন হারা অবস্থায় তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের রাজসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বা দেশে ফেরা। ব্যক্তিগত প্লাটফর্ম থেকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে জানাই সৃবাগতম, অভিবাদন ও সাদর সম্ভাষণ।
দেশের সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল চলছে এখন। বিগত দিনে কখনো এমন প্রেক্ষাপটে জাতি অবলোকন করেনি। সুস্থধারার রাজনীতি চর্চার গতিপথ কে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুসংহত করতে হবে। দেশের সার্বিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করলে সহজেই অনুমেয় যে, কোন শাসনতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর নেই। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মিনিমাম ৫০%ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন আওয়ামী লীগ মাঠে স্বশরীরে হাজির নেই, তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে-বেনামে মামলা বানিজ্য করে হাতাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একটি মহলের আস্ফালনে বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য আজ হুমকি মুখে। তাই তারেক রহমান মুহূর্তের প্রয়োজনে আজকের বাংলাদেশে তাদের নির্বাসিত মেয়াদের পরিবর্তন। আঠারো কোটি মানুষের আশা আকাঙ্খা ভালোবাসা শেষ ভরসা হিসেবে তারেক রহমান বাংলাদেশে এদেশের এটাও একটি ঐতিহাসিক দিন। তারেক রহমানকে জাতির ক্রান্তিলগ্নে সকলেই আশা ভরসার প্রতীক ভাবছে। দেখার বিষয় এখন কতটা কাজ করতে পারেন।
দেশের মানুষ একটি সুস্থ ও সুন্দর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কখনো একক মতাদর্শে একটি দেশ চলতে পারে না। ভিন্ন ভিন্ন মত-পথ আদর্শ, ভিন্ন মত পথ আর পাল্টাপাল্টি যুক্তিই গণতন্ত্রের প্রাণ। কেনো আমরা সবাই একই রাজনৈতিক দলের অনুসারী হবো- বহু দলের অবস্থা এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশ ও জনগনের স্বার্থে প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দল, সংগঠন শক্তির সক্রিয় উপস্থিতি প্রয়োজন! তাহলে দেশপ্রেমে সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে এক প্লাটফর্ম দেশের কন্টকময় অবস্থায় জন্য যে কোন একসাথে বসাতে পারে।
তারেক রহমানের রাজসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমাদের প্রত্যাশাঃ তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করি । সকল ভোটারের ভোটার ভোটের অধিকার কে সুনিশ্চিত করবে,মৌলবাদীদেরকে বাদ দিয়ে বাম-ডান সহ আওয়ামী লীগ তথা চৌদ্দ দল প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গনতান্ত্রিক চর্চায় পাশাপাশি দাড়ানোর ক্ষমতা থাকবে। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বলতে পারি তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে যদিও তা বিশ্বাসের অযোগ্য। তারেক রহমান অযোগ্য কাজকে মুক্তবুদ্ধির কাজে সমৃদ্ধ সুজলা সুফলা শস্য ও শ্যামলা বাংলাদেশ গড়ার পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে! এটাই আমাদের একান্ত কাম্য। শুভ কামনা রইলো নিরন্তর পথচলায় তারেক রহমান ও তার শুভ বুদ্ধিদাতা সহযোদ্ধাদের প্রতি। ম্যাচুরিটি দ্বারা, অপরিপক্কতা দ্বারা আগামীর গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সরকার পরিচালনা করবে। সরকারও বিরোধীদল উভয় দলই মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী দল হতে হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণে, গনতান্ত্রিক চর্চায় এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ। প্রত্যাশার দরজায় দাড়িয়ে প্রতীক্ষা করতেই পারি। (পঁচিশে ডিসেম্বর ২০২৫ইং)
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এস এম এম আকাশ