তিলেকপুর খাতুনে জান্নাত রাঃ মহিলা মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ জাহের আলীর বিরুদ্ধে
দৈনিক বিজয় নিউজ নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
তিলকপুরে মাদ্রাসায় ছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ: ফুঁসে উঠছেন সচেতন অভিভাবকরা, প্রশাসনের তীব্র নজরদারির দাবি করেন এলাকাবাসী। তিলকপুর খাতুনে জান্নাত (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে অত্যন্ত গুরুতর ও সংবেদনশীল একটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তিলকপুর পরিবার গ্রুপ ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার তিরটি সরাসরি উঠেছে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোছা: আফরুজা বেগমের স্বামী মো: জাহের আলীর বিরুদ্ধে। গত (রোববার) এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে তিলকপুর এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক অভিভাবক চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগে তাদের মেয়েদের মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও সচেতন মহলের দাবি— এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিগত কয়েক বছরেও এখানে একাধিকবার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিবারই অপরাধকে আইনের আওতায় না এনে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় ঘরোয়াভাবে কথিত আপোষ মীমাংসা করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর এক ধরণের অদৃশ্য সামাজিক চাপ, প্রলোভন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে ভুক্তভোগী মহলের সূত্রে জানা গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রীকে তাদের অভিভাবকদের অমতে এবং সম্পূর্ণ জোরপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক ভুক্তভোগী পিতা-মাতার অভিযোগ মূল অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এই ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চাপা থাকা এই ক্ষোভ এখন জনসম্মুখে আসতে শুরু করেছে। একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং ছাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেখানে এই ধরণের ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসন যেন কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে। কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ বা ঘরোয়া সালিশের নামে যেন প্রকৃত অপরাধীকে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া না হয়।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ উজ্জ্বল কুমার সরকার