চাঁপাইনবাবগঞ্জ আশা কর্মীর বিরুদ্ধে চেক-স্ট্যাম্প হস্তান্তরের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আশা কর্মীর বিরুদ্ধে চেক-স্ট্যাম্প হস্তান্তরের অভিযোগ
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে পাঁচ লাখ টাকা ঋণের আশায় আশা এনজিওর সদস্য হয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া এলাকার মোসা. রুমা বেগম (৩৬)। অভিযোগ, ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয়, তাঁর ও মেয়ের স্বাক্ষর করা ৪টি ফাঁকা চেক এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। পরে ঋণ না দিয়ে তাঁকে ঘোরানো হয়েছে। এখন সেই চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত পেতে ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন তিনি। রুমার অভিযোগ, গত ২৪ মে আশা এনজিও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এমএমই শাখা কর্মকর্তা মো. সুজন আলী তাঁর বাড়িতে গিয়ে সদস্য করার কথা বলে ৫০০ টাকা ভর্তি ফি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেন। ৪ জুন ঋণের জন্য ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় প্রয়োজন জানিয়ে সুজন নিজে যেতে না পারায় আলামিন নামের এক সদস্যের হাতে টাকা দিতে বলেন। তাঁর কথায় রুমা ৫০ হাজার টাকা দেন।

এর চার দিন পর সুজন পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে রুমার দুটি ও তাঁর মেয়ে তারিন আক্তার জুইয়ের দুটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক নেন। ঋণের কাগজপত্রের কথা বলে মেয়ের এনআইডি ও ছবি, তিনজন গ্যারান্টারের কাগজপত্র এবং ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে রুমা ও তাঁর মেয়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রুমার দাবি, পরে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তাঁকে দুই দফায় ৪৮ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ২ হাজার টাকা, চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়নি। চেক ফেরত চাইলে সুজন কখনো আলামিনের কাছে থাকার কথা বলেন।

চেক উদ্ধারে রুমা ৪ নম্বর বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন। পরিষদে নোটিশের পর ৩১ আগস্ট সুজন উপস্থিত হন। পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সুজন লিখিতভাবে চেকগুলো আলামিনকে ফেরত দিয়েছেন বলে জানান। তবে রুমা চেক পাননি। পরে সুজন দাবি করেন, আলামিন চেকগুলো রুমার মেয়ের সাবেক স্বামী জাফর ইকবালের মেয়ের জামাই আব্দুল্লাহর কাছে দিয়েছেন। বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারেস আলী বলেন, ‘রুমা চেক উদ্ধারের জন্য অভিযোগ করেছিলেন। সুজন চেকগুলো আলামিনকে দিয়েছেন মর্মে লিখিত দিয়েছেন। কিন্তু যার চেক, তার কাছেই ফেরত দেওয়া উচিত ছিল। একজনের চেক আরেকজনকে দেওয়া ঠিক হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে সুজন আলী বলেন, ‘আমি চেকগুলো আলামিনের হাতে দিয়েছি। আলামিন বলেছে, সে চেকগুলো আব্দুল্লাহ নামে একজনকে দিয়েছে। তাঁর কাছ থেকে আমি চেকগুলো উদ্ধার করতে পারিনি। তবে রুমা এ বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে তাঁর স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক বা স্ট্যাম্প অন্যের কাছে দেওয়ার অনুমতি দেননি। তাঁর আশঙ্কা, এসব কাগজ ব্যবহার করে তাঁকে আর্থিক বা আইনি হয়রানিতে ফেলা হতে পারে। আলামিন বলেন, ‘আশা এনজিওর কর্মী সুজন আলী রুমাকে ফেরত দেওয়ার জন্য আমাকে চারটি চেক দেন। কিন্তু রুমাকে চেকগুলো ফেরত দেওয়ার আগেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। রুমার সাবেক জামাই জাফর ইকবালের মেয়ের জামাই আব্দুল্লাহ রুমার কথা বলে আমার কাছ থেকে চারটি চেক নিয়ে চলে যান। এখন চেকগুলো আমার কাছেও নেই, রুমার কাছেও নেই। এ অবস্থায় আমরাও বিপদে পড়েছি।’

এ বিষয়ে আশা’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ম্যানেজার মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ শাখা ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, ঋণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের নথি নেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তাঁর কর্মকর্তা সুজন আলী ভুল করে থাকলে বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। আশা’র রাজশাহী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মের বাইরে কাজ করলে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রুমার অভিযোগ, মেয়ের সাবেক স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর ব্যাংক হিসাবও বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা প্রয়োজন। ঋণ অনুমোদনের আগে স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া, সেগুলো সংরক্ষণ এবং তৃতীয় ব্যক্তির হাতে যাওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রুমা। তিনি তার চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন