সিআইডি শনাক্ত করেছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আট অজ্ঞাতনামার পরিচয়
দৈনিক বিজয় নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকাঃ
রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন হওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ১১৪ জন অজ্ঞাতনামা শহীদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। এদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপনের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনাক্তকৃত শহীদরা হলেন: মো. মাহিন মিয়া (২৫), আসাদুল্লাহ (৩১), পারভেজ বেপারী (২৩), রফিকুল ইসলাম (৫২), সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (২৯), ফয়সাল সরকার (২৬) ও কাবিল হোসেন (৫৮)।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক সায়েদুর রহমান, সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন হওয়া ১১৪ জনের মরদেহ তারা উত্তোলন করেছে। উত্তোলনের পর মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে স্বজনদের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মোট নয়টি পরিবারের সদস্যরা এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন।
সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, পরিচয় শনাক্ত ছাড়াই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের দাফন করা হয়েছিল, যা জাতির মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। আটজনের মরদেহ শনাক্তের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি কিছুটা হলেও দায়িত্ব পালন হলো।
এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিআইডি আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে রায়েরবাজার কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে। গত বছরের ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কাজ চালানো হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিআইডি এই কাজ সম্পন্ন করে এবং এতে দেশি-বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে তখন ১১৪ জনের পরিচয় অজানা থাকায় তাদের অজ্ঞাতনামা মরদেহ রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে এসব মরদেহ দাফন করেছিল।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী, রায়েরবাজার কবরস্থানে তারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ৮০ জনের এবং আগস্টে ৩৪ জনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছিল।
পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে এই আবেদনটি করেছিলেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ ই