দিনাজপুরের বীরগঞ্জের প্রাণ দাস এর মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, পিবিআই-এর তদন্তে!
দৈনিক বিজয় নিউজ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
প্রাণ দাস এর মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, পিবিআই-এর তদন্তে সুপরিকল্পিত হ*ত্যা সূত্রঃ দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৪, তারিখ-২০/১০/২০২৫ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০। জিআর-২২৯/২০২৫ (বীরগঞ্জ)। মামলার বাদিনী সারতী রাণী দাস অতি সাধারণ ও নিরীহ গরীব মানুষ, পেশায় দিন মজুরের কাজ করে। একমাত্র ছেলে হত্যার বিচারের জন্য অনেক জায়গায় গিয়েছে। কিন্তু অসহায়ের মতো ফিরে এসেছে। পিবিআই দিনাজপুর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে প্রাণ দাস (২৫) মারা গেলে তার শাশুড়ী জোসনা রানী (৪৫) ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহ*ত্যা করেছে মর্মে বীরগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে লিখিত সংবাদ প্রদান করলে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বীরগঞ্জ থানার অ*পমৃ*ত্যু মামলা নং-১৭, তারিখ-২৫/০৪/২০২৫ রুজু হয়। মৃত প্রাণ দাসের হতভাগিনী মা সারতী রাণী দাস গত ৩১/০৭/২০২৫ ইং তারিখ পিবিআই অফিসে ইউডি মামলার কপি নিয়ে হাজির হয়ে জানায় যে, "আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির সবাই বলে প্রাণ বি*ষ খেয়েছে। আমার বিশ্বাস হয় না, সে বিষ খাবে। কেন বি*ষ খাবে? তারা প্রাণকে তাড়াহুড়ো করে প্রাণের গোসল করায়। থানায় ইউডির সংবাদ আমরা দেইনি। কোথাও কোন সহযোগিতা পাই নি। তাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর পরামর্শে পিবিআই অফিসে এসেছি। ছেলে হ*ত্যার সঠিক তদন্ত চাই।"
বাদিনীর দেয়া সেই ইউডি সংবাদের কপিটি পিবিআই দিনাজপুর অফিসে জিডি করে এসআই মোঃ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে কয়েকজন চৌকশ সাব-ইন্সপেক্টরের সমন্বয়ে একটি টিম করে সেই ইউডির ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। ছায়া তদন্তে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত প্রমাণাদি সংগ্রহ করে আমরা সিদ্ধান্তে উপনিত হই যে, ডিজিস্ট প্রাণ দাসকে নিশ্চিত হ*ত্যা করা হয়েছে। এটা কোন বিষ খাওয়ার ঘটনা নয়। নিজেরা বাঁচার জন্য এটা আসামিরা সাজিয়েছে। ঘটনার দিন প্রাণ দাসের শ্বশুর শাশুড়ী তার স্ত্রী পুজা এবং পুজার ভাই দিপু এরাই তাকে হ*ত্যা করে হত্যাকে ধামাচাপা দিতে বি*ষ খাওয়ার ঘটনা সাজিয়ে এটাকে আত্মহ*ত্যা বলে প্রচার করেছে।
পরবর্তীতে ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ ডিজিস্টের মা সারতী রানী দাস (৫৪) বীরগঞ্জ থানায় ০৪(চার) জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি দায়ের করে। এজাহারনামীয় আসামিগণ হলেন ১। দিপু রায় (২২), পিতা-নিপেন্দ্র নাথ রায় ২। পূজা রাণী দাস (১৯), পিতা-নিপেন্দ্র নাথ রায় ৩। জোসনা রানী (৪৫), স্বামী-নিপেন্দ্র নাথ রায় এবং ৪। নিপেন্দ্র নাথ রায় (৫০), পিতা-মৃত ক্ষেত্র বর্মন, সকলের সাং-ডাকেশ্বরী, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই দিনাজপুর জেলার অ্যাডিশনাল ডিআইজি জনাব মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় আবেদন করলে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার স্মারক নং-পিবিআই/মামলা/২০২৫/৭১৭৮/ক্রাইম ওয়েস্ট, তারিখ-২০/১০/২০২৫ ইং মূলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই দিনাজপুর জেলার উপর অর্পিত হয় এবং মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পিবিআই দিনাজপুর জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মেহেদী হাসানকে নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং পিবিআই দিনাজপুর জেলার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ মহোদয়ের সার্বিক নেতৃত্বে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মেহেদী হাসান সহ পিবিআই দিনাজপুর জেলার একটি চৌকশ টিমের তৎপরতায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় এজাহারনামীয় ০৪ (চার) জন আসামিকে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানাধীন ডাকেশ্বরী গ্রামের নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে গ্রেফতারকৃত এজাহারনামীয় ১নং আসামি দিপু রায় এবং ২নং আসামি পূজা রানী দাস দ্বয়কে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ১নং আসামি দিপু রায় ২নং আসামি পূজা রানী দাসের পরকীয়ার কারণে সৃষ্ট কলহ ও অসন্তোষের জের ধরে অন্যান্য আসামিগণসহ পরিকল্পিতভাবে প্রাণ দাস (২৫)-কে হ*ত্যা করার কথা স্বীকার করে। ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ আসামি দিপু রায়ের স্বীকারোক্তি মোতাবেক দিপু রায় এর শয়ন ঘর থেকে ইট তৈরীর ফার্মা এবং তার ব্যবহৃত খাট জব্দ করা হয়। একই দিনে ১নং আসামি দিপু রায় বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আতিউর রহমান