রাজাপুরে জনদুর্ভোগ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ ব্যবহার; কবে মিলবে মুক্তি?

রাজাপুরে জনদুর্ভোগ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ ব্যবহার; কবে মিলবে মুক্তি?
ছবিঃ সংগৃহীত

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ৪২ গুড়া গ্রামে হাকিম মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার পার্শ্ববর্তী গ্রামে চলাচলের জন্য একটি ছোট সংযোগ সেতু নির্মাণের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছে। বিগত সময়ে একাধিকবার দাবি জানানো সত্ত্বেও, ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের অনিয়মের কারণে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে, ৫ই আগস্টের পর স্থানীয় সকল জনসাধারণের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেতুটি নির্মাণের সম্মতি দেন।

সেতু নির্মাণের কাজটি ২৫/১১/২০২৪ তারিখে অনুমোদিত হয় এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য (মেম্বার) জনাব মাইনুল ইসলাম কবির (মোঃ কবির হাওলাদার) এর কাছে কাজটির দায়িত্ব ও অর্থ বরাদ্দ হস্তান্তর করা হয়। ২০/১২/২০২৪ তারিখে মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মধ্যে কাজ ও অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

সমস্যা ও অনিয়মঃ
কাজ ও অর্থ বুঝে পাওয়ার পর, মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে কাজটি স্থগিত রাখেন। স্থানীয়রা একাধিকবার অনুযোগ ও অনুরোধ জানালেও তিনি কাজটি সম্পন্ন করতে কোন আগ্রহ দেখাননি। কিছুদিন পর ওই এলাকার একটি মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু ভেঙে পড়ে। ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত ঐ ভাঙ্গা সেতুর লোহার অ্যাঙ্গেল ও পুরনো স্ল্যাব (পাটা) স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করতে বলা হয়। মেম্বার স্থানীয়দের বলেছিলেন যে, তারা নিজেরাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপকরণগুলো সংগ্রহ করে আনলে, এর associated খরচ তিনি পরিশোধ করে দেবেন। স্থানীয়রা সেই অনুযায়ী উপকরণ সংগ্রহ করতে প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা খরচ করেন। কিন্তু মেম্বার পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে খরচের টাকা পরিশোধ ও কাজ সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানান।

দীর্ঘ ৭-৮ মাস অনুরোধের পর, তিনি শুধুমাত্র দুটি লোহার অ্যাঙ্গেলের উপর ভাঙ্গা পুরনো স্ল্যাব বসিয়ে কাজটি অসম্পূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখে দেন। অথচ, কাজটির সম্পূর্ণ অর্থ তিনি আগেই গ্রহণ করেছেন।

বর্তমান ঝুঁকিঃ
বর্তমানে এই অসম্পূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিকেরও বেশি মানুষ চলাচল করছেন। এর মধ্যে পাঁচটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় শিশু-কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। সেতুটির প্রতিটি স্ল্যাবের মাঝখানে ফাঁক রয়েছে এবং উভয় পাশে কোনো সাপোর্ট বা রেলিং নেই। এই ত্রুটির কারণে যেকোনো সময় যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াঃ
স্থানীয় জনগণ বারবার ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ কবির হাওলাদারের কাছে তাদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা জানালেও, তিনি কোনো ইতিবাচক সমাধান দিচ্ছেন না। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।

জনস্বার্থে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনাঃ
এমতাবস্থায়, নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে এবং একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা রোধ করতে জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট  হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী বলে আপিল হচ্ছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/