বরিশাল নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার এক দশক পর ভবন ভাঙার কাজ শুরু

বরিশাল নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার এক দশক পর ভবন ভাঙার কাজ শুরু
ছবিঃ এনামুল হক

দৈনিক বিজয় নিউজ বরিশাল নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বরিশাল সিটি করপোরেশন দশ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ৩৪টি ভবন ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে নগরীর সদর রোডে দুটি তিনতলা ভবন ভাঙার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়।

সিটি করপোরেশন সূত্রমতে, প্রভাবশালীদের চাপ, মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা জটিলতার কারণে এতদিন এসব ভবন ভাঙা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার যে দুটি ভবন ভাঙা শুরু হয়েছে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরই সেগুলো ভাঙার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়। ধাপে ধাপে বাকি সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনও নিরাপত্তার খাতিরে ভেঙে ফেলা হবে।

প্রশাসনিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বটতলা, সদর রোডসহ বরিশাল নগরীর ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মোট ৩৫টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৩ সালের জরিপে এগুলোকে সংস্কারের অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে করপোরেশন। এ তালিকায় পুরনো বহুতল ভবনের পাশাপাশি কিছু অপেক্ষাকৃত নতুন ভবনও রয়েছে।

সদর রোডে ভাঙা শুরু হওয়া দুটি ভবনের মধ্যে একটি হেলে পড়া এবং ফাটল ধরা অবস্থায় ছিল। ওই ভবনের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, তাঁর চাচা ১৯৬০ সালে এবং তার ৩০ বছর পর সদর রোডে এই ভবন দুটি নির্মাণ করেন। ২০১৩ সালে একটি ভবনে ফাটল ধরে এবং সেটি পাশের ভবনের দিকে হেলে পড়ে। ফলে সিটি করপোরেশন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা জোরপূর্বক দখল ধরে রাখায় তখন ভবন ভাঙা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, ভবন ভাঙার জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা করপোরেশনে জমা দেওয়ার পরই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘উলফাত ও শাকুর ম্যানশন নামের ভবন দুটির জন্য আগেই ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা আদালতে মামলা করেছিলেন। আমরা আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় পেয়েছি। আজ সকালে তাদের চূড়ান্তভাবে চলে যাওয়ার নোটিশ দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু হয়। আশা করছি, সাত দিনের মধ্যে ভবন দুটি ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নগরীর ৩৫টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সিটি করপোরেশন এবং সেসব ভবনে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সাইনবোর্ড লাগানো হয়। তবে এরপর দীর্ঘদিন এসব ভবন উচ্ছেদে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি করপোরেশন। পুনরায় নতুন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ভবনগুলোর মধ্যে কাঠপট্টি রোডের একটি ভবন মালিকপক্ষ ইতিমধ্যে ভেঙে নতুন করেছে। বাকি ৩৪টি ভবন এখনো আগের অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে থেকে দুটি ভবন ভাঙা শুরু হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে নগরীর কাউনিয়া এলাকার জানুকি সিংহ রোডের মতি লস্করের বাড়ি, পূর্ব বগুড়া রোডের রবীন্দ্রনাথ সেনের ভবন, আগরপুর রোডে মনু মিয়ার ভবন, সদর রোডের হোটেল বাহাদুর ভবন, সার্কুলার রোডের সৈয়দ মনছুর আহমেদ ভবন, সদর রোডের শাকুর ম্যানশন, ঈশ্বর বসু রোডের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসপাতাল রোডে মান্নান মৃধার ভবন, কালুশাহ সড়কের জালাল আহমেদের ভবন, সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের পুরনো হোস্টেল ভবন, মেডিকেল কলেজ লেনের ক্ষণিকা ভবন, বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রবাস, বগুড়া রোডের সালাম চেয়ারম্যানের পুরনো ভবন, সদর রোডের হাজি ইসরাইলের ভবন, হাতেম আলী কলেজের জ্ঞান-বিজ্ঞান ভবন, দক্ষিণ চকবাজারের পুলিশ মালখানা ও গারদখানা, সিঅ্যান্ডবি রোডের উপজেলা পরিষদের পুরনো ভবন, সদর রোডের সৈয়দ ভবন, কাউনিয়া প্রধান সড়কের বেনী লাল গুহর ভবন, রূপাতলী এলাকার নলছিটি প্লাজা, কাঠপট্টির মিল্লাত ফার্মেসি, চন্দ্রিকা ব্রাদার্স, আহম্মদ ক্লথ স্টোর্স, জুম্মান ব্রাদার্স, অমৃত ভবন, সৈয়দ কামাল হোসেন রুবেলের ভবন, চিত্ত সাহা ভবন, সাধনা ঔষধালয় ভবন, ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ের গোল্ডেন টাওয়ার ভবন, হাসপাতাল রোডের মো. মনিরুজ্জামানের ভবন এবং বগুড়া রোডের মাহাবুব হোসেন ও মাহফুজ হোসেনের ভবন।

তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ভবনই শত বছরেরও বেশি পুরনো। তবে কিছু ভবন নিয়ে মালিকপক্ষের আপত্তি রয়েছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এনামুল হক