দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি শ্রমজীবীদের জীবন-জীবিকায়ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে!

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি শ্রমজীবীদের জীবন-জীবিকায়ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে!
ছবি: মোঃ আতিউর রহমান

দৈনিক বিজয় নিউজ দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেওয়ায় প্রায় অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। কয়েক মাস আগেও প্রতিদিন হাজারও মানুষ ও শত শত ট্রাক যাতায়াত করত এই বন্দর দিয়ে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি ভারতীয় ট্রাক হিলিতে প্রবেশ করত, এখন তা কমে মাত্র ২০ থেকে ৩০টি ট্রাক প্রবেশ করছে। এতে চরম দুর্দশায় পড়েছেন শ্রমিক,ট্রাকচালক, আমদানি-রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্টরা। বন্দরের চারপাশে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। অলস সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক অত্র জেলায় অভিযান পরিচালনা করিয়া দিনাজপুর হিলি আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, ‘বর্তমান সংকটটি অস্থায়ী। আশা করি, শিগগিরই দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমস্যা দূর হবে। তখন হিলি বন্দর আবার আগের মতো সচল হবে।’ এই অবস্থার মধ্যেও হিলি কাস্টমস হাউস থেকে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। রাজস্ব কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন বলেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৪২ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটিতে।’

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দরের স্থবিরতা শুধু অর্থনীতির নয়, সাধারণ শ্রমজীবীদের জীবন-জীবিকায়ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।’ তিনি বলেন, ‘দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে হিলি স্থলবন্দর আবার ফিরে পাবে আগের কর্মচাঞ্চল্য! আগে চাল, আলু, পাথরসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানি হলেও এখন কেবল জিরা, কাঁচা মরিচ, মাছ ও পশুখাদ্য, ডাল ও ব্লিচিং পাউডার সীমিত আকারে আসছে এই বন্দরে। একসময় প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ শ্রমিক কাজ করতেন হিলিতে। এখন কাজ পাচ্ছেন মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন। বাকি শ্রমিকরা দিনভর বসে থেকে সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরছেন বাড়ি। শ্রমিক আব্দুল কাদের বলেন, ‘সকাল থেকে বসে থাকি, যদি কোনো ট্রাক আসে। কিন্তু বেশির ভাগ দিনই কাজ জোটে না।’ আরেক শ্রমিক হাসান আলীর ভাষায়, ‘দুপুরের খাবার নিয়ে বের হই কিন্তু না খেয়ে ফিরে যাই।’

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আতিউর রহমান