প্রতিবাদে উত্তাল দেশের ২৩টি ক্যাম্পাস: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রতিবাদে উত্তাল দেশের ২৩টি ক্যাম্পাস: মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবিঃ মোঃ নাঈম আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ – পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) চত্বরে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)সহ সারাদেশের ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঘটনার বিবরণ গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)কে জনসমক্ষে পিটিয়ে ও পাথর মেরে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআক্রোশ তৈরি হয়েছে। অনেকে এটিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করছেন।

ক্যাম্পাসভিত্তিক বিক্ষোভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)  শিক্ষার্থীরা শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বটতলা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি শহীদ রফিক-জব্বার হল, পরিবহন চত্বর হয়ে পুনরায় বটতলায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। তারা "যুবদল খুন করে, ইন্টেরিম কি করে", "বিএনপির অনেক গুণ, নয় মাসে দেড়শো খুন", "যেই হাত খুন করে, সেই হাত ভেঙে দাও"—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভকারীরা "যুবদলের অনেক গুন, পাথর মেরে মানুষ খুন", "চাঁদা তোলে পল্টনে, চলে যায় লন্ডনে"—প্রতিবাদী স্লোগান তোলে। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাবি শাখার নেতৃত্বে সমাবেশে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সালাম হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে মেয়ে শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। "আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ", "বিএনপির সন্ত্রাসের, হুঁশিয়ার সাবধান"—স্লোগান দিয়ে তারা শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা "চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও", "ওয়ান টু থ্রি ফোর, চাঁদাবাজ নো মোর"—স্লোগান দিয়ে বলেন, "চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই।" 

ঢাকা কলেজ হল পাড়া থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত মোড় হয়ে কলেজ গেটে শেষ হয়। "খুনিদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে", "মধ্যযুগীয় বর্বরতা, চলবে না চলবে না"—স্লোগান তোলা হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শেরে বাংলা হল থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। "আমরা নৃশংসতা চাইনি"—বলেন এক বিক্ষোভকারী।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় "মিটফোর্ডে খুন কেন? তারেক রহমান জবাব দে", "আমার সোনার বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই"—স্লোগান দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বকে জবাবদিহির দাবি জানানো হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় "চাঁদাবাজের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না", "রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়"—স্লোগান সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।

অন্যান্য ক্যাম্পাস শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ইডেন কলেজে একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। 

শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও ন্যায্য বিচার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। কিন্তু আজও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতা চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।"

ঘটনাটি এখন জাতীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে, এবং সরকার ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমে