নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১১টি বার্মিজ গরু -মহিষ জব্দ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১১টি বার্মিজ গরু -মহিষ জব্দ
ছবিঃ এম হাবিবুর রহমান রনি

দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

৯ অক্টোবর ২০২৪ ইং: বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে ১১টি মিয়ানমার (বার্মিজ) গরু ও মহিষ জব্দ করেছে। বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়,নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)'র পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে সদর ইউনিয়নের ফুলতলীতে ৩টি ও জারুলিয়াছড়িতে ৩টি এবং দূর্গম দৌছড়ি ইউনিয়নের লেমুছড়ির বাহির মাঠে ৫টি সহ মোট ১১টি মিয়ানমার (বার্মিজ) গরু ও মহিষ জব্দ করেছে। জানা যায়,বুধবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০ টার সময় নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)'র নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধীনস্থ ফুলতলী বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ আঃ রশিদের নেতৃত্বে টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ফুলতলীর লম্বাশিয়া নামক স্থানে বিজিবি অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ৩টি মিয়ানমার (বার্মিজ) মহিষ জব্দ করে। একই দিনে সকাল সাড়ে ১১ টায় নাইক্ষংছড়ি ১১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)'র অধীনস্থ লেম্বুছড়ি বিওপি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ শামীম হোসেন এর নেতৃত্বে টহল দল বিজিবির অধীনস্থ বিওপির টহল দলের দায়িত্ব পূর্ণ সীমান্ত পিলার-৪৯ এলাকার উত্তরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বিওপি থেকে দক্ষিণে
লেমুছড়ির বালুরমাঠ নামক স্থানে বিজিবি অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ৫টি মিয়ানমার (বার্মিজ) গরু জব্দ করে।

অপর দিকে সকাল ১০ টার সময় নাইক্ষংছড়ি ১১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)'র অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির একটি টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লেবুবাগান নামক স্থান থেকে মালিকবিহীন ০৩ টি অবৈধ পথে আসা মিয়ানমার (বার্মিজ) গরু জব্দ করে। বিজিবির একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য,সন্ত্রাস ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবী,বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত দিয়ে আসছে গবাদিপশু ও মাদকদ্রব্য। বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে, পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল,সার,চাউল,মুরগি, ঔষুধ, চাউল, তরিতরকারী, বিস্কুট, মাছসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও মালামাল। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ মালামাল মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে দেশে এসব পণ্য সামগ্রী ও খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করেন সচেতন মহল।
অনতিবিলম্বে সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে করতে কঠিন প্রদক্ষেপ গ্রহনে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন জনসাধারণ। নাইক্ষংছড়ি ১১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)'র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল সাহেল আহমেদ নোবেল বলেন, মালিকবিহীন জব্দকৃত ১১টি মিয়ানমারের গরু-মহিষ নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ ব্যাটালিয়ান (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছে।

গুরু ও মহিষ গুলি নিলাম করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান। তিনি আরও জানান,নাইক্ষ‍্যংছড়ি ১১ বিজিবির অধিনস্থ সব সীমান্ত এলাকায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে ব‍্যাপক ভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। উল্লেখ্য,নাইক্ষ‍্যংছড়ি ১১ বিজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন ৪৮ নং সীমান্ত পিলার এলাকার বাংলাদেশ -মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার চেলিরটাল নামক জায়গা দিয়ে সীমান্ত এলাকার কয়েকটি প্রভাবশালী চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের লোকজনের মাধ্যমে হাটা পথে এনে কচ্ছপিয়ার বিভিন্ন ঘর এবং খামারে মজুদ করা হয় গরু এবং মহিষ। যা পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার এবং সোমবারে গর্জনিয়া বাজারে তুলে দেশীয় রশিদের মাধ্যমে বিক্রি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবহনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে,তারা নাইক্ষ‍্যংছড়ি ১১ বিজিবির জোন কমান্ডারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশীয় খামারিদের বাঁচাতে হলে অভিযান আরো জোরদার করার দরকার। জানা যায়,সীমান্ত দিয়ে অসাধু চোরাকারবারিরা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমার থেকে গরু নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত এলাকার ভিতরে নিয়ে আসে। উল্লেখ্য,নাইক্ষ‍্যংছড়ি ১১ বিজিবির নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিরা প্রতিদিন হাজার হাজার গরু,মহিষ মিয়ানমার থেকে নাইক্ষ‍্যংছড়ি সীমান্ত পারি দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গা দিয়ে গর্জনিয়া ও চাকঢালার হাটে নিয়ে বিক্রি করে। এই গরু মহিষ,ইয়াবা পাচার রোধ করার জন্য বিজিবির অভিযান আরো জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি