টেকনাফে দুইদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের,নৌযান চলাচল বন্ধ

টেকনাফে দুইদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের,নৌযান চলাচল বন্ধ
ছবি: শামসুল আলম শারেক

দৈনিক বিজয় নিউজ টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র বন্দর সমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। যার ফলে সাগর উত্তাল রয়েছে৷ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। টেকনাফ উপকূলের সাগর পাড়ে জাল ও নৌযানের বিভিন্ন ধরনের মেরামত কাজ করছেন মাঝিমাল্লারা। দুইদিন ধরে টেকনাফ- সেন্টমার্টিন বিকল্প  নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

নৌকার মাঝি ইব্রাহীম বলেন, সাগরে উত্তালের কারণে দুইদিন ধরে মাছ শিকার বন্ধ। যখন সাগর শিথিল হয় তখন ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। তখন আমরা কষ্টে পড়ে যাই। সরকারের কাছে আমরা আবারো  ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার ঘোষণা টি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। যে সময় জালে বেশি মাছ ধরা পড়ে সে সময় ২২ দিন বন্ধ রাখা হয়। এটা ছাড়া আমাদের আর কোন কাজ না থাকায় সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়।  টেকনাফ এলাকায় তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে  মাত্র ৫ শতাংশ জেলেরা সরকারি চাউল পাই। আর বাকিরা চাউল পাই না । জেলে শামশুল আলম বলেন, সাগর উত্তালের কারণে আমরা সাগরে যেতে পারছি না। আমরা গরিব মানুষ। আমরা কোথায় যাব। আমরা এখন অসহায়। মাছ শিকার করা ছাড়া অন্য কাজ জানিনা। সাগর ছাড়া আমরা চলাফেরা করতে কষ্ট হয়ে যাই। 

জেলে কালু মিয়া বলেন, সাগর উত্তাল এর কারণে আমরা জাল নৌকা মেরামত করতেছি। আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার করাতে পারছি না। আমরা এখন চিন্তায় পড়ে গেছি। সামনে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখা হবে। আমরা সরকারী চাউল ও পাই না। শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক  সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে।

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। টেকনাফ উপজেলা জ্যৈষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা মো দেলোয়ার হোসেন বলেন, আবহাওয়া জনিত কারণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পযন্ত ২২দিন ইলিশ প্রজনন মৌসুম হিসেবে নদী ও সাগরের মাছ ধরা ও বিক্রয় বন্ধ থাকবে বলে জানায়।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ শামসুল আলম শারেক