কচ্ছপিয়ার ৪০ হাজার ইয়াবা কাণ্ডে বিজিবি ধরলো ইয়াবা, পুলিশ ধরল আসামী !
দৈনিক বিজয় নিউজ নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের রামুর নতুন মিয়াজিপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবির একটি টহলদল। একই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ ইউনুস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খবর পান—মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান কচ্ছপিয়া হয়ে রামুতে প্রবেশ করবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোর থেকে অবস্থান নেন। পরে সকাল ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের কম্বনিয়া-রামুর মৌলভীকাটা শাহসুজা সড়ক হয়ে একটি মোটরসাইকারে করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নতুন পাড়া এলাকায় প্রবেশ করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে পাচারকারীরা গর্জনিয়া বাজার হয়ে নতুন মিয়াজিপাড়ার মুনিয়া নামক গড় ফাদারের পুরাতন বাড়ির পাশ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে তারা জনৈক হেলালের বাড়ির পূর্ব পাশের সবজি ক্ষেতে ইয়াবার চালান ছুড়ে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আবদুল হালিম (২১) নামে এক যুবককে আটক করে। আটক আবদুল হালিম নাইক্ষ্যংছড়ির সিএনজি চালক আবদুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই সময়ে ১১ বিজিবির একটি টহলদলও তাদের নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা সবজি ক্ষেত থেকে ৩৯ হাজার ৫০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, একই ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে আসামী, আর বিজিবি জব্দ করেছে ইয়াবা। ফলে এখন মামলা ও আলামতের দায়িত্ব কোন সংস্থা নেবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা একটি হলেও অভিযান ছিল দুইটি। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে গর্জনিয়া বাজারের ব্যবসায়ী নেতা মৌলানা কবির আহমদ ও আবদুল হামিদ দাবি করেন, আটক আবদুল হালিম কথিত ইয়াবা কারবারি আবুজর আল গিফারীর গাড়িচালক। স্থানীয়ভাবে আবুজর আল গিফারী ‘ইয়াবা মনু’ বা ‘ইয়াবা মনিয়া’ নামে পরিচিত। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ এম হাবিবুর রহমান রনি