পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সুবিদখালী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
দৈনিক বিজয় নিউজ পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড.মো. আবদুর রহমান বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৫ মে মঙ্গবার) সকাল ১১ টায় সুবিদখালী মহিলা কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড.মো. আবদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে অধ্যক্ষ ড.মো. আবদুর রহমান বলেন, উপজেলার নারী উচ্চ শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপিঠ সুবিদখালী মহিলা কলেজের দীর্ঘ দিনের সুনাম ও আমার ব্যাক্তিগত ইমেজ নষ্ট করতে একটি মহল আমাকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। যার সাথে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি আরো বলেন গত ১৯ ও ২১ এপ্রিল দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ ফেইসবুক পেইজে এবং দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ অনলাইন প্রোটালে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। উপরোক্ত দু'টি তারিখে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক তাই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমি দাবী করি। অভিযোগকারী জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন, পিতা মোহাম্মদ আলী অত্র সুবিদখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিগত ইং০১/০৩/২০০৫ তারিখে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ডিগ্রী স্তরে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। শুধুমাত্র যোগদানের তারিখে কলেজে উপস্থিত হয়ে অত্র কলেজের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এবং এর পর কোনদিন আর কলেজে আসেননি বা কোন শ্রেণী কার্যক্রম ও পাঠদানে অংশগ্রহন করেননি। জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন দীর্ঘদিন যাবৎ কলেজে অনুপস্থিত থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে ০৫/০৮/২০০৮ ইং তারিখে ০৮/৪০৬(৩) নং স্মারকে তার স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করেন। কিন্তু তিনি কোন জবাব প্রদান করেননি বা কোনভাবে যোগাযোগ রাখেননি।
অত:পর ০৮/০৮/২০০৯ ইং তারিখে ০৯/৫০৮ (০৩) নং স্মারকে ২য় কারণ দর্শানো নোটিশ এবং ১০/০৪/২০১১ ইং তারিখে ৩য় ও চুড়ান্ত নোটিশ প্রেরণ করেও জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন আত্মপক্ষ সমর্থন করিয়া কোন জবাব কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করেননি বা কোন প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেননি। জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন এর দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্থিতির বিষয়ে চাকুরির বিধি-বিধান ও শর্তাবলী লংঘন করে অন্যত্র চাকুরী ও পেশাগত অসদাচরনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের লক্ষ্যে গভর্নিংবডির ১৩/০৫/২০১১ খ্রি. তারিখের ০৮ নং সভায় তাকে চাকুরীচ্যুত করে প্রভাষক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি পদটি শূন্য ঘোষনা করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন এর চাকুরীচ্যুতির বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্মারক নং-আইএনএস০২-৬/০০০২৮/৬/১৫২৫/৪৯১০০, তারিখ: ২৩/১২/২০২০ মোতাবেক জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন (প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এর চাকুরীচ্যুতির বিষয়টি সঠিক বলে অনুমোন করেন।
অত:পর জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন বাদী হয়ে মাননীয় সহকারী জজ আদালত, মির্জাগঞ্জ সিভিল কোর্ট তৎকালীন একই বিষয়ের প্রভাষক মোসা: তানজিলা আক্তার গংদের বিবাদী করে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-১০০/২০২০ রজু করেন। অত্র মামলাটি চলমান এবং আগামী ইং ৩০/৪/২০২৬ তারিখ স্বাক্ষীর জন্য দিন ধার্য আছে। অত:পর জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন বিগত ইং ০২/০৩/২০২৬ তারিখে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে আমার (অধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে প্রতারনা ও বিশ্বাস ভঙ্গের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি চাকুরী নেয়ার জন্য ৮,০০০,০০.০০ (আটলক্ষ) টাকা এবং পরবর্তীতে বেতন-ভাতা করানোর জন্য ৫,০০০,০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকাসহ সর্বমোট ১৩,০০০,০০ (তের লক্ষ) টাকা প্রদান করেছেন মর্মে দাবী করেছেন। উল্লেখিত টাকার অভিযোগের বিষয়ে ইতোপূর্বে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর নিকট কিংবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেননি। প্রতিষ্ঠানের যে কোন নিয়োগের বিষয়ে কলেজের গভর্নিংবডি ক্ষমতা সংরক্ষন করেন এবং চাকুরীচ্যুতিসহ 'অন্যান্য বিষয়ও একই কমিটি সম্পন্ন করে থাকেন। আমি অধ্যক্ষ পদাধিকার বলে ঐ কমিটির সদস্য সচিব। নিয়োগ দেয়া এবং চাকুরীচ্যুতির বিষয়ে আমি কোন নগদ অর্থ গ্রহন করিনাই বা অভিযোগকারীর নিকটেও অর্থ প্রদানের বিষয়ে কোন প্রমান নাই। চাকুরীচ্যুত হওয়ার কারনে অভিযোগকারী জনাব মো: বেল্লাল উদ্দিন অর্থ প্রদানের বিষয়ে অযাচিতভাবে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগকারী কর্তৃক মির্জাগঞ্জ থানায় দাখিলকৃত আমার বিষয়ে অভিযোগসহ গত ১৯/০৪/২০২৬ ইং তারিখে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ ফেইসবুক পেইজে এবং ২১ তারিখে দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ অনলাইন প্রোটালে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে আমি তীব্র প্রতিবাদ করিলাম। যাহা সকলের জানার জন্য আমি অদ্য ইং ২২/০৪/২০২৬ তারিখ আপনার প্রতিবাদ করিলাম।
আরো এক ভদ্রলোক আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছেন অভিযোগে বলেন যে তার ৪ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ভোগদখলে নিয়েছি, কিন্ত আমি ভদ্রলোকের শাশুড়ি এবং তিন বোন তারা আমাদের কলেজে মসজিদ করার জন্য দান করেছেন। এবং সে জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা আছে সেটা বাস্তবে দেখতে পারেন। তবে ওই ভদ্রলোকের জমি আমি দখল করিনি একটা মিথ্যা এবং বানোয়াট। এই এলাকার মোঃ হুমায়ন কবির মোল্লা থানায় অভিযোগ করেছেন যে ২০১৮ সালে তিনি অফিস সহকারী পদের চাকুরির জন্য ৭ লক্ষ টাকা কন্টাক করেছে ৫ লাখ টাকা নগদ দিয়েছে ২ লাখ টাকা বাকি রয়েছে তাকে আমি চাকরিও দেইনি কিন্ত নিয়োগ যখন হয় তখন জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় এবং ব্যাংক ড্রাফ পোস্টার অর্ডার থাকে এবং তার ওই পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে কিনা ও ঐ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা আপনি পুলিশ সদস্য হয়ে জানতে চান, পরে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ কাছে জানতে চাইলাম যে এই অভিযোগের সম্পার্কে আপনি কিছু জানেন কিনা সে বলছে না আমি কিছু জানি না, আমি এবং আমার কমিটিও জানে না তাই এই অভিযোগে প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং একটি কুচক্রী মহল আমার এবং আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের মান সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য পায়তারা চালাচ্ছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আল মামুন