রুনা লায়লা- বহুগুণের অধিকারী এ মহীয়সী নারী একাধারে অভিনেত্রী,
শুভ জন্মদিন রুনা লায়লা
রুনা লায়লা- বহুগুণের অধিকারী এ মহীয়সী নারী একাধারে অভিনেত্রী, কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার। তবে কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই এক নামে পরিচিত। তিনি নিজেও নিজেকে গায়িকা হিসেবে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অহংকার, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আজ সত্তরে পা রাখলেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই নিজের জন্মদিনকে ঘিরে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখেন না দেশীয় সংগীতের উজ্জ্বল এ নক্ষত্র। আর করোনার কারণে গত দুই বছর প্রায় ঘর থেকেই বের হননি তিনি। এমনকি একান্ত আপনজন ছাড়া কোনো গণমাধ্যম কর্মীদেরও নিজের বাসায় না আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু করোনা অনেকটা নিস্ক্রিয় হওয়ায় স্বস্তির সঙ্গে এবারের জন্মদিন পালন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন জীবন্ত এ কিংবদন্তি। তবে দিনটিতে তিনি পরিবারের সঙ্গেই আনন্দের মধ্য দিয়ে সময় কাটাবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া জন্মদিন উপলক্ষে স্যাটেলাইট চ্যানেল মাছরাঙা টিভির 'রাঙা সকাল' অনুষ্ঠানে বিশেষ একটি সাক্ষাৎকার প্রচার হবে আজ সকাল ৭টায়। রুম্মান রশীদ খান ও সিঁথি সাহার সঞ্চালনায় বিশেষ এই 'রাঙা সকাল'-এ রুনা লায়লা জানাবেন, সংগীত জীবনের কিছু অজানা কথা। বলবেন গায়িকা নয়, তার হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। এ কারণে টানা চার বছর করাচির বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভরতনাট্যম, কত্থক, কত্থকলি শিখেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গানের মাঝেই থেকে যান একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া দেশবরেণ্য এ তারকা। রুনা লায়লা প্রায় দুই বছর করোনায় অনেকটাই ঘরবন্দি সময় কাটানোর পর আগামী ১৯ নভেম্বর রুনা লায়লা লন্ডনে যাচ্ছেন মেয়ে তানি ও দুই নাতির সঙ্গে সময় কাটাতে। যাওয়ার আগ মুহূর্তে তাই ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি। জন্মদিন এবং জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, 'জন্মদিন আসলেই আসলে ছোটবেলার জন্মদিনের কথা খুব মনে পড়ে। বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। এখন তো আসলে জন্মদিনকে ঘিরে বিশেষ তেমন কিছু করাও হয়ে ওঠে না। ঘরের মধ্যেই দিনটিকে বিশেষায়িত করার চেষ্টা থাকে। পরিবারের সঙ্গেই সময় কেটে যায়। আলস্নাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে, এক জীবনে আমি অনেক পেয়েছি, আলহামদুলিলস্নাহ। বিধাতার অসীম রহমতে আমি অনেক কিছুই পেয়েছি। সত্যিই আমার আর চাওয়ার কিছু নেই। যে যশ, যে নাম, যে খ্যাতি হয়েছে আমার, তাতেই আমি পরিপূর্ণ। এখন শুধু কিছু সুর সৃষ্টি করে যেতে চাই, নতুনদের কণ্ঠে সেসব সুর তুলে দিয়ে যেতে চাই। আলস্নাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন, আমার পরিবারের সবাইকে ভালো রাখেন, এই দোয়া চাই।' রুনা লায়লা ১৭টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। পেয়েছেন স্বাধীনতা পদকসহ বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ৫৭ বছরের বর্ণাঢ্য সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন ১২ বছরের এক কিশোরের জন্য গান গেয়ে। ১৯৬৪ সালে বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলীর অনুমতি নিয়ে সাড়ে ১১ বছর বয়সে পাকিস্তানের 'জুগনু' সিনেমায় প্রথম গান করেন। 'গুড়িয়াসি মুন্নী মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি' গানটি কণ্ঠে তোলার জন্য একটানা দুই মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সুরকার নিসার বাজমির সুরে একদিনে ১০টি করে ৩ দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। রুনা লায়লা'র নিজের গাওয়া সর্বশেষ একক মৌলিক গান ছিল 'ফেরাতে পারিনি'। এটি গত বছর ধ্রম্নব মিউজিক স্টেশনে প্রকাশিত হয়েছিল। গানটি লিখেছেন কবির বকুল, সুর করেছেন রুনা লায়লা নিজেই। সংগীতায়োজন করেছিলেন রাজা ক্যাশেফ। এছাড়াও গেল বছরই তার সুরে আশা ভোঁসলে, হরিহরণ, আদনান সামি, রাহাত ফতেহ আলী খান বাংলা ভাষায় গান গেয়েছিলেন। এই প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে কণা, হৈমন্তী, ইউসুফ, ইমরান, লুইপা, কোনাল, ঝিলিকের কথা তিনি বিশেষভাবে উলেস্নখ করেছেন। তারা নিয়মিত ভালো করার চেষ্টা করছে বলে তিনি তার অভিমত প্রকাশ করেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ডব্লিউবি