করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীর বস্তিগুলোতে গণটিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
টিকা নিতে কড়াইল বস্তিতে দীর্ঘ লাইন
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীর বস্তিগুলোতে গণটিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গতকাল মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে টিকাদান শুরু হয়েছে। টিকা নিতে পুরুষের তুলনায় নারীর উপস্থিতি ছিল বেশি। টিকা নিতে গতকাল সকাল ৭টা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বস্তির বাসিন্দারা। লাইন লম্বা হওয়ায় টিকা নিতে আগ্রহীদের অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। ২৫টি বুথে চলেছে টিকাদান। টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে অধিকাংশই গৃহকর্মী, গার্মেন্ট শ্রমিক ও রিকশাচালক। দ্রুত বস্তিবাসীদের টিকার আওতায় আনতে শুক্রবারও টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের। কড়াইল বস্তির টিকা সেন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, টিকা নিতে বস্তিবাসীকে গত সোমবার একটি করে টোকেন কার্ড দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। সেই কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মসনদ নিয়ে এসে অনস্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা নিয়েছে বস্তিবাসী। এ ছাড়া যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করে মেসেজ পায়নি তারাও গতকাল লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছে। বস্তিতে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, কড়াইল বস্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ৫ লাখ টিকা বরাদ্দ দিয়েছে উত্তর সিটি। ২৫টি বুথে মঙ্গলবার ১৫ হাজার, বুধবার থেকে দেওয়া হবে ২০ হাজার ডোজ টিকা। বাকিটা শনিবারও দেওয়া হবে। বস্তিতে বসবাস করা ১৮ বছরের বেশি সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কড়াইল বস্তিবাসীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। পুরো বস্তিই আমরা টিকার আওতায় নিয়ে আসব। যে কদিনই লাগে, এ কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বস্তিগুলো টিকার আওতায় নিয়ে আসব।’ কড়াইল বস্তিতে টিকা কার্যক্রমে সহায়তা করছে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। প্রতিটি বুথে রেড ক্রিসেন্টের চারজন স্বেচ্ছাসেবক ও দুজন করে ভ্যাকসিনেটর কাজ করছে। এরশাদ মাঠ সেন্টারের দায়িত্বে থাকা রেড ক্রিসেন্টের কভিড-১৯ টিকা কর্মসূচির টিম লিডার আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনে প্রতিটি বুথে ৬০০ করে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরও যদি কেউ অপেক্ষায় থাকে তাদেরও টিকা দেওয়া হবে। টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে নারী বেশি। ২৫-৪০ বছর বয়সী মানুষ বেশি টিকা নিতে আসছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ডব্লিউবি