শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে প্রতীকী ওয়াকআউট তিন দলের
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহত হন, যাদের বেশিরভাগই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। পরবর্তীতে হতাহতদের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর alleged হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবাদ জানায়।
২৩ জুলাই বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া তিনটি রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ ও বাংলাদেশ জাসদ—১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউট করে। এই কর্মসূচি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ১৮তম দিনের সংলাপের সময় পরিচালিত হয়।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর রাষ্ট্রীয় হামলা "স্বৈরাচারী শাসনের পদ্ধতিকে প্রতিধ্বনিত করে"। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের একজন উপদেষ্টার বক্তব্যে "ষড়যন্ত্র তত্ত্ব" দেখে মনে হয়েছে, সরকার সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের নামে দায়িত্ব এড়াচ্ছে। বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ-এর নেতারাও এই বক্তব্যের সমর্থন দেন এবং সংলাপ থেকে অস্থায়ীভাবে বেরিয়ে প্রতিবাদ জানান।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রতীকী ওয়াকআউটকে "রাজনৈতিক অধিকারের বৈধ চর্চা" বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলগুলোর বক্তব্য সরকারের বিবেচনার জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এই সংলাপে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ৩০টি দল অংশ নেয়। কমিশনের সদস্যবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি প্রশিক্ষণ বিমানের নিরাপত্তা, শহুরে বিমানবন্দরের ঝুঁকি (যেমন শাহজালাল বিমানবন্দরের অবস্থান জনবহুল এলাকায়), এবং সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি পেশ করে, যার মধ্যে পুরানো বিমান বাতিল ও ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত।
এই প্রতীকী ওয়াকআউট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও ট্র্যাজেডির তদন্তে স্বচ্ছতার দাবিরই প্রতিফলন। এটি দেখায়, সংকটকালে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান খোঁজার প্রয়াস চলছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ