গোপালগঞ্জে এনসিপি সমাবেশে হামলা ও ১৪৪ ধারা জারি: সংশোধিত প্রতিবেদন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) বেলা পৌনে ৩টার দিকে শহরের পৌর পার্ক এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এনসিপির নেতা-কর্মীদের ঘিরে লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং মঞ্চ ভাঙচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, সমাবেশ শেষ হওয়ার পরই একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এনসিপির গাড়িবহর ও মঞ্চ লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তারা পুলিশের গাড়িও অবরুদ্ধ করে।পুলিশ ও সেনাবাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদুনে গ্যাস এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, হামলাকারীরা পাল্টা আক্রমণ চালায়।এনসিপির নেতারা পুলিশের নিরাপত্তা ছাড়াই গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশ প্রথমদিকে নিষ্ক্রিয় ছিল।
জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান ১৪৪ ধারা জারি করে কোনো ধরনের সমাবেশ বা জমায়েত নিষিদ্ধ করেছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার আগে ইউএনওর গাড়িতে আক্রমণ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য ও গাড়িচালক আহত হন।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, কিন্তু পুলিশ প্রথমে হস্তক্ষেপ করেনি"। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল হামলাকে "স্বৈরাচারী শাসনের ফল" বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
এনসিপির "মার্চ টু গোপালগঞ্জ" কর্মসূচি মাসব্যাপী "দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা"-এর অংশ ছিল। হামলার আগের দিন থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছিল।
"একটা জেলায় আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা করবে নির্বাচন?" — এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ ফেসবুকে।
এই ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ নাঈম আহমেদ