পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে ওঠেছিল বাবর আজমের দল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে ওঠেছিল বাবর আজমের দল পাকিস্তান।

পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে ওঠেছিল বাবর আজমের দল পাকিস্তান। কিন্তু স্বপ্নের ফাইনালে আর খেলা হলো না তাদের। বলতে গেলে আকাশে উড়তে থাকা শাহিন আফ্রিদি ও বাবর আজমের দলকে মাটিতে নামাল অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে দুবাইতে অনুষ্ঠিত সপ্তম টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়ানরা। পাকিস্তানের দেওয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য ১ ওভার হাতে রেখেই জয়ের তীরে তরী ভেড়ায় অ্যারন ফিঞ্চের দল। শেষ মুহূর্তে মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েডের ঝড়েই মূলত বাবর আজমের দলকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় অজিরা। সপ্তম টি২০ বিশ্বকাপের পুরো আসর জুড়েই পাকিস্তান ছিল অপ্রতিরোধ্য এক দল। অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলতে নামলেও তাদের মাটিতে নামতেই হলো। যাদের টুর্নামেন্টের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না, সেই অস্ট্রলিয়াই ৫ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। তাতে আগামী রোববার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে অজিরা। টান টান উত্তেজনার এই ম্যাচের শেষটায় এক পর্যায়ে পাকিস্তানের জয়ই সম্ভাব্য মনে হচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার ২৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। ১৭তম ওভারে স্টয়নিসের একটি চার ও এক ছয়ের পর তিন ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭ রানের। ১৮তম ওভারে আবারও এক চার ও এক ছয়ে অজিদের কক্ষপথে রাখেন ম্যাথু ওয়েড। পরের ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে ম্যাথু ওয়েডকে ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ ছিল। কিন্তু মিডউইকেটে তার ক্যাচ নিতে পারেননি হাসান আলি। বলতে গেলে এই ক্যাচ হাত ফসকে যাওয়ার পর ম্যাচও হাতছাড়া হয় পাকিস্তানের। জীবন পেয়ে পরের তিন বলে তিন ছয়ে এক ওভার হাতে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন অজি এই উইকেটকিপার। শেষের ঝড়ে অজিদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া স্টয়নিস ৩১ বলে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাথু ওয়েড ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ বের করে নেওয়ায় ম্যাচসেরাও হন তিনি। অথচ অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন শাদাব খান। ৯৬ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায় তার লেগ স্পিনের কল্যাণেই। টপে ওয়ার্নারের ৩০ বলে করা ৪৯ রান ছাড়া আর কেউ পাকিস্তানের ওপর ত্রাস ছড়াতে পারেননি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাসম্যারা চলে যাওয়ার পর পাকিস্তানও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছিল। রান রেটের চাপ বেড়ে যাওয়া ক্রিজে থাকা ব্যাটসম্যারা ভুল করছিলেন ঠিকই। কিন্তু পাকিস্তানি ফিল্ডাররা কিছু সুযোগ হাতছাড়ায় পরে সেটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে হারের কারণ! ক্যাচ মিসের আগে ওয়েডকে রান আউটের সুযোগও মিস করেছে তারা। অবশ্য ওয়ার্নার যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটি নিয়েও পরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। রিপেস্নতে দেখা গেছে বল তার ব্যাটেই লাগেনি! রিভিউ নিলে বেঁচে যেতে পারতেন। অথচ শুরুতে পাকিস্তানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রানটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল চ্যালেঞ্জিং। ৪ উইকেটে ১৭৬ রান। এই স্কোর পেতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন রিজওয়ান-ফখর। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দুজনই পেয়েছেন ফিফটি। সকাল থেকেই শঙ্কা, জ্বরের কারণে সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে নামলেন তিনি। অধিনায়ক বাবর আজম ও ফখর জামানের সঙ্গে গড়লেন দুটি দারুণ জুটি। তাকে দারুণ সহায়তা করলেন ফখর। তাতেই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াকু পুঁজিই গড়ে বাবর আজমের দল। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রিজওয়ান ও ফখরের ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৬ রান করে পাকিস্তান। দুবাইয়ে বরাবরই টস গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শুরুতেই ভাগ্যটা সঙ্গে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যদিও শুরুটা সেভাবে ভালো করতে পারেনি দলটি। আরও একবার দারুণ ওপেনিং জুটি উপহার দেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার। এরপর অধিনায়ক বাবরকে ফেরালেও ফখর জামানের সঙ্গে রিজওয়ান আরও একটি দারুণ জুটি গড়লে লড়াইয়ের পুঁজি মিলে যায় পাকিস্তানের। তবে এদিন জ্বর থেকে উঠে আসা রিজওয়ান শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। তৃতীয় ওভারে খালি হাতে বিদায় নিতেও পারতেন। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। পাওয়ার পেস্নর শেষে কিছুটা ধীরে গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে বাবরের দল। দশম ওভারে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রম্ন পায় অজিরা। জাম্পার বলে বাবর স্স্নগ সুইপ করতে গিয়ে লংঅনে সীমানায় ধরা পড়েন ওয়ার্নারের হাতে। তবে এর আগে ৭১ রানের দারুণ এক ওপেনিং জুটি এনে দেন পাকিস্তানকে। ৩৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৯ রান করেন বাবর। এরপর ফখরের সঙ্গে দলের হাল ধরেন রিজওয়ান। গড়েন ৭২ রানের আরও একটি দারুণ জুটি। স্টার্কের ফুলার লেংথের বলে ঠিকভাবে শট নিতে না পারলে মিডঅফে ধরা পড়েন রিজওয়ান। ৫২ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। নিজের ইনিংসটি ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজান তিনি। এদিন অবশ্য কিছু করতে পারেননি সুপার টুয়েলভে দারুণ নজরকাড়া আসিফ আলি। প্যাট কামিন্সের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন স্টিভ স্মিথের হাতে। ঠিক পরের বলেই আউট হতে পারতেন ফখর। এবারও ফিল্ডার সেই স্মিথ। কিন্তু লুফে নিতে পারেননি তিনি। ফখর তখন ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন। তবে ১৯তম ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে রানের গতিতে লাগাম দেন কামিন্স। আর শেষ ওভারেও শুরুটা ভালো করেছিলেন স্টার্ক। প্রথম ৩ বলে আসে মাত্র ২ রান। তবে পরের দুই বলে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে পুঁজিটা বাড়িয়ে নেন ফখর। শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে খেলেন ৫৫ রানের দারুণ এক টর্নেডো ইনিংস। ৩২ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক। একটি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স ও অ্যাডাম জাম্পা। সংক্ষিপ্ত স্কোর পাকিস্তান : ২০ ওভারে ১৭৬/৪ (রিজওয়ান ৬৭, বাবর ৩৯, ফখর ৫৫*, আসিফ ০, মালিক ০, হাফিজ ১*; স্টার্ক ১/৩৮, হ্যাজলউড ০/৪৯, ম্যাক্সওয়েল ০/২০, কামিন্স ১/৩১, জাম্পা ১/২২, মার্শ ১/২২)। অস্ট্রেলিয়া : ১৯ ওভারে ১৭৭/৫ ( ওয়ার্নার ৪৯, ফিঞ্চ ০, মার্শ ২৮, স্মিথ ৫, ম্যাক্সওয়েল ৭, স্টয়নিস ৪০*, ওয়েড ৪১*; আফ্রিদি ১/৩৬ সাদাব ৪/২৬, ইমাদ ০/২৫ হাসান ০/৪৪, রউফ ০/৩২, হাফিজ ০/১৩)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী ম্যাচসেরা : ম্যাথু ওয়েড (অস্ট্রেলিয়া)

দৈনিক বিজয় নিউজ/ডব্লিউবি