কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: আটক ৬২৪
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জুড়ে উঠতি বয়সী যুবকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত মারাত্মক আকার ধারণ করায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এক বিশাল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে মোট ৬২৪ জন কিশোর ও তরুণকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের মূল চিত্র ও বিস্তৃতি গত কয়েক দিন ধরে চলা এই সমন্বিত অভিযানে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন অলিগলি, পার্ক, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং প্রতিটি উপজেলার সংবেদনশীল ও বখাটেদের উৎপাতপূর্ণ স্থানগুলোতে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের কার্যকারিতা বাড়াতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের বয়স এবং তাদের অপরাধের ধরন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক সেবন বা মারামারির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধে জড়িতদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিগত দিনের কর্মকাণ্ড ও পুলিশের কঠোর অবস্থান কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ বিগত দিনগুলোতেও বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বিগত মাসগুলোতেও বেশ কিছু বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়: সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং: জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এবং অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। কাউন্সেলিং কার্যক্রম: গত কয়েক মাসে আটক হওয়া অনেক কিশোরকে সংশোধনের জন্য অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। অভিভাবকদের জবাবদিহিতা: অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা রাতবিরেতে বাড়ির বাইরে কাটালে বা বাইক নিয়ে ঘুরাফেরা করলে তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। সমাজের নেতিবাচক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানের পেছনে পারিবারিক নজরদারির অভাব, মুঠোফোনের অপব্যবহার এবং অপসংস্কৃতি অনেকাংশে দায়ী। এই গ্যাং কালচার কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিই ঘটাচ্ছে না, বরং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, "কুমিল্লার মাটি থেকে কিশোর গ্যাংয়ের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত জেলা পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু অভিযান নয়, তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও বিকল্প নেই।" জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অভিযান কেবল সাময়িক নয়; বরং এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়েছে যাতে উঠতি বয়সীরা কোনোভাবেই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ার সাহস না পায়।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ