ভাই-বোনের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের, শ্রীপুরে উত্তেজনা

ভাই-বোনের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের, শ্রীপুরে উত্তেজনা
ছবিঃ মো: আল আমিন

দৈনিক বিজয় নিউজ প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাই-বোনের পারিবারিক বিরোধ থামাতে গিয়ে তৃতীয় পক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ী গ্রামের কাওরাইদ-বরমী আঞ্চলিক সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল ইসলাম ওই গ্রামের হানিফার ছেলে। তিনি ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজিজুলের বোন শিমলা ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আজিজুল ছোট ভাইকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রড, সাবল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আজিজুলকে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা প্রধান অভিযুক্ত মো. শামীম (৩৪) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। নিহতের মেয়ে আজিদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাবাকে প্রকাশ্যে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। হামলার পর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” নিহতের ছোট ভাই তাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পারিবারিক ঝগড়ার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা হামলা চালায়। তারা আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। শুধু তাই নয়, পরে আমাদের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে মা, বোন ও অন্য স্বজনরাও মারধরের শিকার হন।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতেই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সোমবার হামলার ঘটনায় প্রথমে একটি মারামারির মামলা রুজু করা হয়েছিল। তবে আহত আজিজুল ইসলামের মৃত্যু হওয়ায় মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মো: আল আমিন