রাজশাহীতে পবা থানায় মামলা না নিয়ে অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী

রাজশাহীতে পবা থানায় মামলা না নিয়ে অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আদালতের ডিক্রি ও পুলিশের উপস্থিতিতে জমি বুঝে পাওয়ার দাবি, ফের বিরোধে হামলার অভিযোগ রাজশাহীর পবা থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলার অভিযোগ নিয়ে মামলা করতে গিয়ে মামলা না নিয়ে শুধু লিখিত অভিযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী হারুনুর রশীদ। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। আদালতের রায় ও ডিক্রির পর ২০১৭ সালে পুলিশ ও আদালতের নেজারত বিভাগের উপস্থিতিতে তিনি বিরোধপূর্ণ জমির অংশ বুঝে পেলেও পরবর্তীতে ওই জমিকে কেন্দ্র করে ফের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর পবা উপজেলার খন্ডক্ষেত্র গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাই ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে দাবি করেন হারুনুর রশীদ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিযোগ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পবা উপজেলার মথুরা তালতলা মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হারুনুর রশীদ। এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

হারুনুর রশীদ বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে খন্ডক্ষেত্র গ্রামের মৃত আব্দুল করিম দেওয়ানের ছেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তার সৎ ভাই ময়েন দেওয়ান, আমিনুল দেওয়ান, একরাম দেওয়ান, ইব্রাহিম দেওয়ান, ভাবি আকলিমা ও শাহানাজ, সৎবোন ছামেনাসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, হামলার পর তিনি ও তার স্ত্রী শ্যামলী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে তিনি ঘটনার বিষয়ে মামলা করতে পবা থানায় যান। থানায় গিয়ে দেখেন অভিযুক্তরা ওসির কক্ষে হারুনুর রশীদের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, যাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করতে এসেছেন, তাদের কয়েকজন আগে থেকেই ওসির কক্ষে অবস্থান করছেন। বিষয়টি দেখে তিনি হতবাক হলেও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, থানার ডিউটি অফিসারের টেবিলে থাকা এসআই নাদিম তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান এবং জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জমিটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন বলেও জানান বলে দাবি করেন হারুন।
হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের কাগজপত্র বিস্তারিত যাচাই না করেই একরাম দেওয়ান গংয়ের কাগজপত্র আপডেট রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। পরে তিনি ওসির কক্ষে গেলে ওসি তার কাগজপত্রের ফটোকপি নেন এবং বিবাদীপক্ষকে হারুনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে বলেন। মামলা না নিয়ে অভিযোগ দেওয়ার নির্দেশ—অভিযোগ হারুনের হারুনুর রশীদ আরও অভিযোগ করেন, তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাইলে পবা থানার ওসি মামলা না নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। একই সঙ্গে বিবাদীপক্ষকেও পাল্টা অভিযোগ দিতে বলা হয়। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হামলার শিকার হওয়ার পর থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলেও মামলা গ্রহণ না করে উভয় পক্ষের অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

১৯৮৯ সালের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশীদ তার জমি সংক্রান্ত বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার পিতা আব্দুল করিম দেওয়ান ১৯৮৯ সালে হেবা শর্তে তার সৎ ভাইদের নামে একটি খতিয়ানের ৯৪ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটির বিবরণ—মৌজা আমগাছী, আরএস খতিয়ান নম্বর ১০০ এবং জেএল নম্বর ১০৮। তবে জমি রেজিস্ট্রির কয়েক মাস পরই একটি দলিলের মাধ্যমে ওই জমি পুনরায় ফেরত নেওয়া হয়। ওই দলিলের নম্বর ৬১১৩/৮৯।
হারুনের দাবি, জমি ফেরত নেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে তার সৎ ভাইয়েরা পরবর্তীতে তাকে ও তার মাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। আদালতের ডিক্রি, ২০১৭ সালে জমি বুঝে পাওয়ার দাবি নিজের ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবিতে ২০০৭ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে মামলা করেন বলে জানান হারুনুর রশীদ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৫ সালে তিনি আদালতের ডিক্রি পান বলে দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের ওই ডিক্রির মাধ্যমে একটি দাগে ৩ শতক এবং অন্য একটি দাগে ১৩ শতক—মোট ১৬ শতক জমিতে তার প্রাপ্য অংশ নির্ধারিত হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর আদালতের নেজারত বিভাগ ও পবা থানার পুলিশের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে ওই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং জমিতে লাল নিশান পুঁতে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানান হারুন। ফেসবুক ভিডিও প্রকাশের পর ‘ক্ষুব্ধ’ হওয়ার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশীদ আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী শ্যামলীর ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। তার দাবি, ভিডিওটি প্রকাশের পর পবা থানার ওসি ক্ষুব্ধ হয়ে ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ভিডিওটির কমেন্টবক্সে কয়েকটি ফেক আইডি ব্যবহার করে তাকে ‘মাদক কারবারি’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে ফেক আইডিগুলো কারা পরিচালনা করেছেন বা এসব মন্তব্যের সঙ্গে থানার কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না—সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি হারুনুর রশীদ বলেন, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ, আদালতের ডিক্রি এবং সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণ না করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পুলিশের বক্তব্য পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে ।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন