মোহনপুরে একই গ্রামে দুই সার ডিলার? বর্তমান ডিলারের শ্যালকের আবেদন ঘিরে প্রশ্ন

মোহনপুরে একই গ্রামে দুই সার ডিলার? বর্তমান ডিলারের শ্যালকের আবেদন ঘিরে প্রশ্ন
ছবিঃ মোঃ রাজিব খাঁন

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের তশোপাড়া গ্রামে সার ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন করে আবেদনকে ঘিরে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই গ্রামে বর্তমানে একজন সার ডিলার দায়িত্ব পালন করলেও একই গ্রামের আরেক ব্যক্তির নামে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে সার ডিলারের জন্য আবেদনকারী মো. ফিরোজ বর্তমান সার ডিলার মো. আশরাফুল আলমের স্ত্রীর ছোট ভাই (শ্যালক)। ফলে একই এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি আবেদনকারীর সঙ্গে বর্তমান ডিলারের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সার ডিলার হওয়ার জন্য আবেদনকারী মো. ফিরোজ, পিতা—রইচ উদ্দিন, গ্রাম—তশোপাড়া, ইউনিয়ন জাহানাবাদ, উপজেলা—মোহনপুর, জেলা—রাজশাহী। অন্যদিকে, তশোপাড়া গ্রামের বর্তমান সার ডিলার হিসেবে রয়েছেন মো. আশরাফুল আলম, পিতা—মৃত কাসেম, গ্রাম তশোপাড়া, ইউনিয়ন—জাহানাবাদ, উপজেলা—মোহনপুর, জেলা—রাজশাহী। স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৃষি উপকরণ। ফলে সার ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকলে তার প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়তে পারে। তাই নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকার প্রকৃত চাহিদা, কৃষকের সংখ্যা, বিদ্যমান ডিলারের কার্যক্রম এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন—একই গ্রামে বর্তমানে একজন সার ডিলার থাকার পর নতুন করে আরেকজন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? যদি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই এলাকায় একাধিক ডিলার নিয়োগের সুযোগ থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও যৌক্তিকতাও স্থানীয় কৃষকদের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন আবেদনকারী বর্তমান ডিলারের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে আবেদনকারী ও বর্তমান ডিলারের পারিবারিক সম্পর্ক সত্য কি না, নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই সম্পর্ক কোনো প্রভাব ফেলছে কি না এবং আবেদনকারী সরকারি সব যোগ্যতা পূরণ করেন কি না—এসব বিষয় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পক্ষকে অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না।

কৃষকদের চাওয়া—সার বিতরণে স্বচ্ছতা স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তাদের প্রধান চাওয়া হলো সময়মতো, ন্যায্যমূল্যে ও হয়রানিমুক্তভাবে সার পাওয়া। ডিলার একজন হোক বা একাধিক—কৃষকের স্বার্থই সেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
তাদের দাবি, নতুন ডিলার নিয়োগের আগে—
এলাকায় বিদ্যমান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না;
কৃষকের তুলনায় বর্তমান ডিলারের বরাদ্দ যথেষ্ট কি না;
একই এলাকায় নতুন ডিলারের বাস্তব প্রয়োজন আছে কি না;
আবেদনকারী সরকারি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন কি না;
বর্তমান ডিলারের সঙ্গে আবেদনকারীর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না;
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাব রয়েছে কি না—
এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

স্থানীয় কৃষকদের আরও দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা পরিবারের সুবিধার চেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানীয়দের সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও ডিলার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তশোপাড়া গ্রামে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং বর্তমান ডিলারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের স্বার্থ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বজায় থাকবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন