ভোরের আলো ফোটার আগেই ডিবির জালে অস্ত্র ও গুলিসহ দুর্ধর্ষ কারবারি আটক

ভোরের আলো ফোটার আগেই ডিবির জালে অস্ত্র ও গুলিসহ দুর্ধর্ষ কারবারি আটক
ছবিঃ সুমন আহমেদ

দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

​ভোরের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশকে এক সুপরিকল্পিত অভিযানে বদলে দিল কুমিল্লার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। নোয়াখালী থেকে মোটরসাইকেলে করে অত্যন্ত সুকৌশলে অবৈধ অস্ত্রের এক বিশাল চালান নিয়ে কুমিল্লার দিকে ছুটে আসছিল এক দুর্ধর্ষ কারবারি। তবে ডিবির চৌকস দলের পূর্বপ্রস্তুতি ও ক্ষিপ্রগতির সামনে শেষ রক্ষা হয়নি তার; সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে তাকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে। ​আজ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) ভোরে জেলার মনোহরগঞ্জ থানাধীন নাথেরপেটুয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা সূত্রে আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে ভারী অস্ত্রের চালান কুমিল্লার অভিমুখে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি বিশেষ টিম আগে থেকেই ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান ও চেকপোস্ট বসিয়ে সতর্ক ছিল। ​ভোর ঠিক ৪টার দিকে নোয়াখালীর দিক থেকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা সন্দেহভাজন একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে পুলিশ থামার ইশারা দেয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক বাইক ঘুরিয়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালান। মুহূর্তের মধ্যে ডিবি সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন এবং ধাওয়া করে কাবু করেন।

​এরপর আটক ব্যক্তির শরীর ও তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে একে একে ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ। উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকাটি হলো: ​একটি সম্পূর্ণ সচল সরকারি শর্টগান ​নিখুঁত কারিগরিতে তৈরি একটি দেশীয় এলজি বন্দুক ​বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কাজনক দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও গুলি ​অবৈধ অস্ত্র পাচার ও পরিবহনে নিয়মিত ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তার নাম মো. এয়াকুব খান ওরফে বাবর (৩২); তিনি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার জামালপুর গ্রামের মো. তৈয়ব খান ও মনোয়ারা বেগমের সন্তান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনিপুণ উপায়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে কুমিল্লার দাগী অপরাধী ও সন্ত্রাসী চক্রের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে আসছিল। ​সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অস্ত্রের চালানটি যদি নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারত, তবে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অপরাধমূলক নাশকতা ঘটতে পারত। তবে ডিবির সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে এক সম্ভাব্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল জনপদ। আটক আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে রিমান্ডের আবেদনসহ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এমন কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে গভীর স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ