দীর্ঘ ২১ বছর পর ন্যায়বিচার: কুমিল্লায় গৃহবধূ মরিয়ম হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই যুগ আগের এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলো আদালতের রায়ে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার চুপুয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে হত্যার দায়ে শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নিহতের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এবং দেবর মো. নিজাম। পাশাপাশি আদালত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। তবে এ মামলায় নিহত মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নির্মমতার শিকার হন গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। ওইদিন রাতে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা টিপে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস এই দীর্ঘ বিচারিক যাত্রায় আদালত মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা শেষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইকরামে হোসেনসহ নিহতের স্বজনরা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত এই রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ