বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে বুড়িচংয়ে চাই-দুয়ারি হাট

বর্ষা মৌসুমে জমে উঠেছে বুড়িচংয়ে  চাই-দুয়ারি হাট
ছবিঃ মোঃ আবদুল্লাহ

দৈনিক বিজয় নিউজ কুমিল্লা প্রতিনিধি:

বর্ষার নতুন পানিতে খাল-বিল ও নদ-নদীতে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মাছ ধরার উপকরণ চাই, দুয়ারীর চাহিদা। আর এই মৌসুমকে ঘিরে কুমিল্লার বুড়িচং  উপজেলার কংশনগর বাজারে সপ্তাহে দুই দিন বসছে এসব চাই ও দুয়ারীর জমজমাট হাট। প্রতি শনিবার ও বুধবার  বিভিন্ন এলাকায়  থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এসে এখানে খুচরা ও পাইকারি দরে এসব সরঞ্জাম কেনাবেচা করছেন। বর্ষা মৌসুমের প্রায় ছয় মাস তারা এই পেশায় ব্যস্ত সময় পার করেন। বিভিন্ন জাতের বাঁশ কেটে তৈরি হয় এসব চাই। সাধারণত একটি বাঁশ থেকে ৭ থেকে ৮টি চাই তৈরি করা সম্ভব হলেও, একজন দক্ষ কারিগর দিনে ৫ থেকে ৬টির বেশি চাই তৈরি করতে পারেন না।

প্রকারভেদে এক কুড়ি চাই বিক্রি হচ্ছে ২হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতিটি চাই ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারিগরদের মতে, একটি বাঁশ কিনতে বর্তমানে খরচ হয় ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এসব ঐতিহ্যবাহী চাই ও দুয়ারীতে ছোট দেশীয় মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ে হরেক রকমের চিংড়ি। চাই তৈরির কারিগর আঃ রহমান  জানান, পরিবারের সব সদস্য মিলে বর্ষার ছয় মাস তারা এই কাজ করেন। তবে বাঁশের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের তুলনায় তাদের লাভ খুবই সামান্য। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "একসময় চাইয়ের প্রচুর চাহিদা ছিল। এখন খাল-বিল ও নদ-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ শিকারিও কমে গেছে। ফলে চাইয়ের বাজার আগের মতো নেই। সরকার যদি সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে, তবে এই কুটির শিল্পটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

দৈনিক বিজয় নিউজ/ মোঃ আবদুল্লাহ