কুমিল্লার তিতাস-মেঘনায় ভয়াবহ টেঁটাযুদ্ধ: আধিপত্যের লড়াইয়ে নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রণক্ষেত্র চরাঞ্চল
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরের দখল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দুই উপজেলার গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ ‘টেঁটাযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের সময় নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) বিকেলে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা এবং মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের দুজন ব্যক্তি ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। সেখানে তাদের মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই খবর চরভাটেরায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এর জের ধরেই বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই টেঁটাযুদ্ধে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। এদের মধ্যে তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন বাসিন্দা রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালীন নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগমের (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তার ঘাড়ে টেঁটা বিদ্ধ ছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও, গুরুতর আহত বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে (৩৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে উভয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় ২৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহটি মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরগুলোর মালিকানা এবং দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনও একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
দৈনিক বিজয় নিউজ/ সুমন আহমেদ