র্যাব-৫-এর টাউন হল সভায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর
দৈনিক বিজয় নিউজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মাদক পাচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাং দমনে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; টেকসই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। মঙ্গলবার রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫ আয়োজিত "নিরাপদ রাজশাহী গড়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জনসাধারণের মধ্যে অংশীদারিত্ব" শীর্ষক টাউন হল সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। র্যাব-৫-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুর রহমান, পিএসসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব এ এন এম বজলুর রশিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান, ১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবুল মাল আবদুল মুহিত, কর্মকর্তা মো. আলী আসলাম এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (রাজশাহী রেঞ্জ) পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন। সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জনসচেতনতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাজশাহী গড়তে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কমিউনিটিভিত্তিক অংশগ্রহণ জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের তথ্য প্রদান, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও বলেন, জনগণ যদি সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। র্যাব-৫-এর চলমান কার্যক্রম তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে র্যাব-৫ তাদের চলমান গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। জানানো হয়, মাদক পাচার রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, হত্যা, ডাকাতি ও ছিনতাই মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত যৌথ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, সাইবার অপরাধ পর্যবেক্ষণ, গুজব প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জনগণ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশীদারিত্বই নিরাপদ রাজশাহীর ভিত্তি সভায় বক্তারা বলেন, জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকর অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা গেলে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত রাজশাহী গড়ে তোলা সম্ভব। বক্তারা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে সহযোগিতা করে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাজশাহী বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দৈনিক বিজয় নিউজ / মোঃ রাজিব খাঁন